দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা একনায়কতন্ত্র, রাজতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোতে শুরু হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়ার পথ ধরে এগুচ্ছে ইয়েমেন, ওমান, বাহরাইন। ঝড় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরবের অন্য দেশগুলোতেও। গণতন্ত্রের এমনই এক জোয়ার শুরু হয়েছিল আশির দশকে আমাদের এ দক্ষিণ এশিয়ায়। ওই জোয়ারে বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। নেপাল মুক্ত হয়েছে রাজতন্ত্র থেকে। স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন। জনগণের অভ্যুত্থানে সামরিক জান্তার হাত থেকে মিয়ানমারের মুক্তি না মিললেও বীজ রোপিত হয়েছে গণতন্ত্রের। মধ্যপ্রাচ্যের জেগে ওঠার প্রেক্ষাপটে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেসব অভ্যুত্থানের বর্ণনা।
নেপালের জনআন্দোলননেপালের নিরবচ্ছিন্ন রাজতন্ত্রের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশবিরোধী সিপাহি বিপ্লবে ব্রিটিশদের পক্ষ নেয়ায় ব্রিটিশ আমলেও নেপালের রাজতন্ত্র ছিল বহাল তবিয়তেই। ১৯৫৮ সালে নেপালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভারতিয় পরিপন্থী নেপালি কংগ্রেস নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়। প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হন বিপি কৈরালা। দুই বছর পর ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে রাজা মহেন্দ্র সংসদ বাতিল ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিজের হাতে নেন। ১৯৬২ সালে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়, যাতে রাজা নিজের পছন্দানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা মনোনয়নের ক্ষমতা পান। ১৯৭২ সালে রাজা মহেন্দ্রর মৃত্যুর পর তার পুত্র বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব ক্ষমতায় বসলেও রাজা হিসাবে তার অভিষেক হয় ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হতে থাকলে ১৯৮০ সালে গণভোটের আয়োজন করা হয়। একতরফা এ নির্বাচনে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পক্ষে রায় গেলেও বিপুল সংখ্যক মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেন। দশ বছরের মাথায় আবারো পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ১৯৯০ সালে শুরু করে ব্যাপক আন্দোলন। স্থানীয় ভাষায় এ আন্দোলনকে বলা হয় ‘নেপালি জনআন্দোলন ২০৬২/৬৩’। এপ্রিলের অভ্যুত্থান নামেও এটি পরিচিত। নেপালি কংগ্রেস ও সাত বাম দলের জোট ‘ইউনাইটেড লেফ্ট ফ্রন্ট’ (ইউএলএফ) যৌথভাবে ৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি কাঠমান্ডুতে জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করে। সম্মেলনে স্থানীয় প্রতিনিধি ছাড়াও বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নামে তারা। একই সময় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পক্ষে রাজা একটি সম্মেলন আহ্বান করলেও তা সফল হয়নি। পঞ্চায়েতবিরোধী সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ভক্তপুর, পালপা ও চিতভন শহরে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এর পরপরই সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ললিতপুর ও কীর্তিপুরের মানুষ অবরোধ করে শহর। শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিক্ষোভকারীদের হাতে। আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে রাজা বীরেন্দ্র সরকার ভেঙে দেন। এপ্রিলে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন। ৮ এপ্রিল আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজা বীরেন্দ্র। রাজা আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এ সময় কৃষ্ণ প্রসাদ ভট্টরাইকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। ১১ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়, যেখানে নেপালি কংগ্রেস থেকে চারজন, ইউএলএফ থেকে তিনজন, স্বতন্ত্র দুইজন এবং রাজপ্রাসাদ থেকে মনোনীত দুইজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এক বছরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের এবং একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের। এভাবেই তিন দশকের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটে। তবে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে গেলেও রাজতন্ত্র থেকে যায় তখনো। অবশেষে তাও বিলুপ্ত হয় ২০০৬ সালের ‘দ্বিতীয় জনআন্দোলনের’ মুখে।
মিয়ানমারের অভ্যুত্থানে মুক্তি পায়নি জনগণ
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়রি ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয় বার্মা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে যাত্রা করে ‘ইউনিয়ন অব বার্মা’। ১৯৫১-৫২, ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে অনুষ্ঠিত হয় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন। কিন্তু বিকাশমান এ গণতন্ত্র অঙ্কুরেই নষ্ট করে দেন সামরিক জান্তা জেনারেল নে উইন। আকস্মিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৬২ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়রি ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয় বার্মা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে যাত্রা করে ‘ইউনিয়ন অব বার্মা’। ১৯৫১-৫২, ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে অনুষ্ঠিত হয় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন। কিন্তু বিকাশমান এ গণতন্ত্র অঙ্কুরেই নষ্ট করে দেন সামরিক জান্তা জেনারেল নে উইন। আকস্মিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৬২ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৮ সালে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক দমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে বার্মার জনগণ। ‘৮৮৮৮ অভ্যুত্থান’ নামে খ্যাত জনগণের ওই অভ্যুত্থানে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে খুন হয় হাজারের ওপর বিক্ষোভকারী। অবশেষে ১৯৮৯ সালে জান্তা সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ঘোষণা করেন। ১৯৯০ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। অনেক বাধা সত্ত্বেও অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় পায়। ৪৮৫ আসনের মধ্যে সু চির দল ৩৯২টি আসন আর সরকারি দল পায় ১০টি। কিন্তু নির্বাচনের ফল অস্বীকার করা হয়। ১৯৮৯ সালেই সামরিক জান্তা দেশটির নাম বদলে মিয়ানমার রাখে। শত শত বছর ধরে বার্মা নামে যে সুন্দর দেশটি বিকশিত হয়েছিল, তা আর নেই। মিয়ানমার এখন বিশ্বের দরিদ্রতম একটি দেশ।দ. কোরিয়ায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু যেভাবে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা অংশ নিয়ে গঠিত হয় দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দক্ষিণ কোরিয়া সরকার প্রধান হিসাবে নিয়োগ পান কমিউনিস্ট বিরোধী নেতা সিংম্যান রি। ক্ষমতায় এসেই তিনি কমিউনিস্ট দমন শুরু করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা অংশ নিয়ে গঠিত হয় দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দক্ষিণ কোরিয়া সরকার প্রধান হিসাবে নিয়োগ পান কমিউনিস্ট বিরোধী নেতা সিংম্যান রি। ক্ষমতায় এসেই তিনি কমিউনিস্ট দমন শুরু করেন।
১৯৪৮ সালের বামপনি’ প্রত্যাখ্যাত সাধারণ নির্বাচনে রি একটি আসনে নির্বাচিত হয়ে ৩১ মে সংসদ অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর কিম জুকে হারিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এর এক বছর পরেই কিম জু গুপ্তহত্যার স্বীকার হন। সিংম্যান রি একজন স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃত। তার হাতে গড়া নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক থেকে ২ লাখ কমিউনিস্ট কর্মী নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৬০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক ছাত্র অভ্যুত্থানে এ স্বৈরাচারের পতন ঘটে। কিন্তু এ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ১ বছরের মাথায় পার্ক চুং হির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটায়। ১৯৭৯ সালে গুপ্তহত্যায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত পার্ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতা ধরে রাখেন। এ সময় অর্থনৈতিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যথেষ্ট এগিয়ে গেলেও পার্ক একনায়ক সেনাশাসক হিসাবে ব্যাপক সমালোচিত হন। পার্ক নিহত হওয়ার পর আবারো রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আরেকটি সেনা অভ্যুত্থান ঘটে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চুন ডু হনের নেতৃত্বে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চই কিউহার অনুমতি না নিয়েই চুন সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল অব স্টাফ জেং সাং হকে আটক করেন প্রেসিডেন্ট পার্ককে হত্যার অভিযোগে। ১৭ মে সারাদেশে সামরিক আইন জারি করা হয়। সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ করা হয় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড। গণতন্ত্রকামীদের বন্দুকের নলের মুখে রেখে এদিন তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সারাদেশে আন্দোলনকারীদের দমন করতে সেনা মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে গুয়াংজুতে শুরু হওয়া সশস্ত্র আন্দোলন দমনের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠান। এরপর চুন ডু ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স ইমারজেন্সি কমিটি’ গঠন এবং রাজনৈতিক পোশাকে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। ১৯৮৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সরকারের নির্যাতনে এক ছাত্র নিহত হলে আবারো ফুঁসে ওঠে গণতন্ত্রকামী জনগণ। অবশেষে চুনের রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক জাস্টিস পার্টির প্রধান র টি উ সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ১৯৮৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে সরাসরি নির্বাচনে টি উ অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কিম ইয়ং সাম ও কিম ডে জাংয়ের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এভাবেই সমাপ্ত হয় ৪০ বছরের অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের খেলা। শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রের যাত্রা।
ফিলিপাইনে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাবিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ফার্ডিনান্দ মার্কোস। ফিলিপাইনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ব্যাপক সফলতা থাকলেও বিরোধী মত ও দল দমনে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ফিলিপাইনের ইতিহাসে তিনিই প্রথম দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ১৯৬৯ সালে। এরপর থেকেই তার জনপ্রিয়তায় ধস নামা শুরু হয়। সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ, স্বজনপ্রিয়তা, দুর্নীতি ও বিরোধী দল দমনে সহিংস পথ অবলম্বনের ফলে তার জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায় চলে যায়। দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ১৯৭২ সালে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার অভিপ্রায়ে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন তিনি। বিরোধী দল দমনে প্রথমেই তিনি আটক করেন সিনেটর বেনিংগো নিনো একুইনো ও সিনেটর জোসে ডাইওকনোকে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুরো দেশই পরিণত হয় একটা জেলখানায়। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ধরে ধরে জেলে ঢোকানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় বেনিংগো একুইনো ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেনিংগোর বিরোধ ঘটে। তার রাজনৈতিক বন্ধু গেরি রক্সাস ও জোভিতো সালোংগা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। ২১টি আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বেনিংগো একুইনো নিজেই ‘পিপল্স পাওয়ার’ নামে একটি দল গঠন করেন। কিন্তু কারচুপির নির্বাচনে সবকটি আসনে হেরে যায় পিপল্স পাওয়ার। ১৯৮০ সালে কারাগারে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন একুইনো। হাসপাতালে নেয়ার পর দ্বিতীবারের মতো তিনি হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েন। দেশে কাছে বাইপাস সার্জারি করাতে রাজি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় তাকে। চিকিৎসা ও নির্বাসন শেষে ১৯৮৩ সালের ১২ আগস্ট দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে গুপ্তহত্যার শিকার হন এ গণতন্ত্রী নেতা। ২১ বছর চলে এই একনায়কতন্ত্রের দমন নিপীড়নের শাসন। ১৯৮৩ সাল থেকে শুরু হয় দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থান। ১৯৮৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ভোট ক্রয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও ভোট ডাকাতির ফলে আবারো বিজয়ী হয় মার্কোসের দল কেবিএল। কিন’ এই কারচুপির নির্বাচনের বিরম্নদ্ধে জনগণ আন্দোলন চালিয়ে যায়। ১১ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের নেতা এভিলিও জেভিয়ার ও আন্টিক নিহত হয় ঘাতকের গুলিতে। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কেবিএল নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীর গুলিতে তারা নিহত হন। এরপর আন্দোলন আরো প্রবল হলে ড়্গমতা ছাড়তে বাধ্য হন মার্কোস। ২০ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীসহ মার্কোস হাওয়াই দ্বীপে নির্বাসনে চলে যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া বেনিংগো একুইনোর স্ত্রী কোরাজন একুইনো প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে ড়্গমতায় বসেন। দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি সংবিধান সংশোধন করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু করেন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা
বাংলাদেশে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী অভ্যুত্থানের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে সামরিক শাসনের শুরু হয়। সর্বশেষ সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসক হিসাবে ক্ষমতায় আসেন ১৯৮২ সালে। ১৯৮৬ সালে কারচুপির নির্বাচনে তিনি নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে আন্দোলন আরো জোরাল হয়। স’বির হয়ে যায় গোটা দেশ। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের হাতে ড়্গমতা হসত্মানত্মর করেন। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের অধীনে ৯১-এর নির্বাচনে বিএনপি ড়্গমতায় আসে। এভাবেই বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন মুক্ত হয়ে যাত্রা শুরু করে গণতন্ত্রের পথে।
